বিশ্ব ঐতিহ্যের ষাট গম্বুজ মসজিদ ! or Bisho Othirjer Shat Gambuj Mosque

বিশ্ব ঐতিহ্যের ষাট গম্বুজ মসজিদ !

Bisho Othirjer Shat Gambuj Mosque

ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ নিয়ে গবেষণা, অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ কম হয়নি। তারপরও প্রতিনিয়ত তৈরি হয় নতুন গল্প, মেলে নতুন সব তথ্য। উপমহাদেশের বিখ্যাত ইসলাম প্রচারক খান জাহান আলী নির্মিত এ মসজিদের গম্বুজ কয়টি তা নিয়েও মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। চিশতীয়া তরিকা অনুযায়ী এর অনুসারীরা কোনো অবদানের কথা কোথাও লিখে রাখেন না। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি খান জাহান আলীর ক্ষেত্রেও। কথিত রয়েছে, যশোর, বাগেরহাটে তিনি ৩৬০ টি মসজিদের পাশাপাশি সমসংখ্যক দীঘি কেটেছিলেন। কিন্তু কোনো মসজিদেই তার শিলালিপি পাওয়া যায় না। মসজিদটির নাম পূর্বে কি ছিল তা ঠিক ভাবে জানা যায় না। পন্ডিত ও গবেষকদের আবার দুটি মত পাওয়া যায়। ষাট গম্বুজ মসজিদে গম্বুজ রয়েছে ৭০ টি। ৭ টি রয়েছে চৌচালা গম্বুজ, যা গম্বুজের যথাযথ সংস্কার মধ্যে পড়ে না। চার কোণায় রয়েছে চারিটি মিনার যা ইসলামে বিজয়ের প্রতীক। এর মাথায় যে চারটি গম্বুজ রয়েছে একে গম্বুজ না বলে অনুগম্বুজ বলা যায়। সে হিসেবে প্রকৃত গম্বুজ ৭০ টি। আর সব ধরলে ৮১ টি। আর একটি মতে পাওয়া যায়, মসজিদটি যে ষাটটি পাথরের স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফারসি ভাষায় তাকে বলা হয় খামবাজ। আর এ খামবাজ শব্দটি বিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয়ে নাম ধারণ করেছে গম্বুজ। অর্থাৎ, ৬০ টি খাম্বার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটির নাম ষাট খামবাজ থেকে ষাট গম্বুজ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মজার বিষয়, এ মসজিদের কোনো ছাদ নেই। অবাক হওয়ার কিছু নেই। ছাদ নেই মানে আমরা সাধারণত প্রচলিত সমান যে ছাদ দেখি তা কিন্তু এখানে অনুপস্থিত। অর্ধডিম্বাকার ও আয়তনের গম্বুজগুলোই এর ছাদ। বলা যায়, গম্বুজ আচ্ছাদিত ছাদ। প্রায় ৬শ বছর বয়সী এ মসজিদের নামকরণ সম্পর্কে কারও কারও ধারণা গম্বুজ ছাড়া আলাদা কোনো ছাদ নেই বলে একে ছাদ গম্বুজ মসজিদ বলা হতো। এক সময় ছাদ গম্বুজ রূপান্তরিত হয়ে ষাট গম্বুজ হয়েছে। সাত সারির ২১ টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। নারীদের জন্য রয়েছে আলাদা সংরক্ষিত জায়গা। বিশাল এ মসজিদে আলো-বাতাসের কোনো অভাব হয় না। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ৬ টি করে ছোট ও একটি করে বড় খিলান। পূর্বপাশে একটি বড় ও তার দুপাশে ৫ টি করে ছোট খিলান। দৈর্ঘ্যে ১৬৮ ফুট ও প্রস্থে ১০৮ ফুটের এ মসজিদের দেয়ালগুলো আট ফুট করে চওড়া। এ স্থাপত্যকলায় তুঘলকি স্থাপত্যের বিশেষ মিল রয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। মূলত চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইটের তৈরি এ মসজিদটির মেহরাব ১০ টি। এর মধ্যে মূল মেহরাবটি পাথরের বাকি ৯ টিতে টেরাকোটার কাজ লক্ষ্য করা যায় যা মধ্যযুগে পালদের মধ্যে ছিলো। মেহরাবের নকশায় দেখা যায় গোলাপ, পদ্ম পাপড়ির টেরাকোটা নকশা। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনোস্কো ১৯৮৩ সালে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর হিসাবে ষাট গম্বুজ মসজিদসহ খানজাহানের স্থাপত্যগুলোকে তালিকাভুক্ত করে। বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এ মসজিদটি দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ভিড় জমান। গত বছর এই মসজিদ কমপ্লেক্স থেকে রেভিনিউ আসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। পর্যটক এসেছেন প্রায় লাখেরও বেশি।

Leave a Comment